ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৩০ অপরাহ্ন
হাজার বছরের ইতিহাস বাঙলা মূকাভিনয়
বাংলাদেশ ব্যুরো
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:২৬:২৪ পিএম
  • / ২২ বার খবরটি পড়া হয়েছে

বিদোন ডেস্ক : বাঙালির ইতিহাস, হাজার বছরের ইতিহাস। বাঙলা একটি জাতির সত্তা। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এই বাঙালি জাতির স্বাধীন সত্তা হিসেবে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীন বাংলাদেশের যে চারটি রাষ্ট্রীয় মূলনীতি রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’।

এই বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, প্রাচীনকাল থেকে দক্ষিণ এশিয়াতে বসবাসরত বাঙালি জাতি তথা বাংলা ভাষাগত অঞ্চলের অধিবাসীদের বোঝানো হয়েছে। যা ব্রিটিশ চক্রান্তে অবিভক্ত বাংলাকে বিভক্ত করে। প্রাচীন বঙ্গদেশ, অর্থাৎ বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বসবাসকারী মানব সম্প্রদায়ের একতাবদ্ধ পরিচয়কে বাঙালি জাতীয়তাবাদ বলা হয়। যাদের ইতিহাস অন্তত: চার হাজার বছর পুরানো এবং এদের মাতৃভাষা বাংলা।

অতএব, বাঙালির জাতীয়তাবাদ- বাংলার ইতিহাস এবং সেই সব মানুষের ভাষা, সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। এই সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনযাত্রাই বাঙালিপনা, বাঙলার অথবা বাঙালির কর্মকাণ্ড।
১৯৭১ সালে বাংলার কিছু অংশ মিলে নতুন একটি স্বাধীন বাংলার দেশ গঠিত হয়েছে। যার নাম বাংলাদেশ ।  ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্রিটিশ ভারত ভাগ হওয়ার ফলে বাঙলার উপর ধর্মীয় প্রভাবে প্রভাবিত হয়, যা ভারতের অধিরাজ্যের বাংলায় হিন্দুধর্মীয় প্রভাব পড়ে এবং পাকিস্তান অধিরাজ্যের পূর্বপাকিস্তান রূপে আর্বিভূত বাংলায় (বর্তমানের বাংলাদেশ রাষ্ট্র) ইসলাম ধর্মের প্রভাব বিরাজমান। সে ক্ষেত্রে বাঙালি সংস্কৃতিতে ধর্মীয় প্রভাব ভৌগলিকতায় সাংস্কৃতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
স্বাধীনতাউত্তোর বাংলাদেশে মূকাভিনয় শিল্প মাধ্যম ছিল সম্পূর্ণ নতুন। মূলত এই চর্চার বাস্তব যাত্রা শুরু হয় সত্তর দশকের দিকে। বঙ্গবন্ধুর বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় নিজস্ব সংস্কৃতিতে মূকাভিনয়কে ‘বাঙালি মূকাভিনয়ের স্বরূপ বা স্বতন্ত্র সক্রিয়তা’ দিয়ে নির্মাণ করার প্রচেষ্টা শুরু করেছিলাম। যা হবে শুধুই আমাদের অর্থাৎ বাঙালি জাতির মূকাভিনয়ের ব্রান্ডিং। আন্তর্জাতিকভাবে তা হবে ব্রিজিং এবং সর্বপরি হয়ে উঠবে ব্রেডিং। আমি তখন প্রথম উত্তর আমেরিকা মাইম ফেস্টিবলের (১৯৮৩) প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করি। তখন আমার স্কেচ ছিল ‘বাঙলার রমনী’ (বেঙ্গল লেডি)। সেটি তৈরি করেছিলাম নিজস্ব ডিজাইনের ড্রেস দিয়ে। এরপর সেই প্রদর্শনী হয় কানাডার ভ্যাংকুভারে ওয়ার্ল্ড এক্সপোতে। ওই প্রদর্শনীতে ইন্টারন্যাশনাল মাইম অ্যাম্বাসেডর অব বাংলাদেশ উপধিতে আমাকে সম্মানিত করা হয়। সময়টা ছিল ১৯৮৬ সালের দিকে।
দেশে এখন মূকাভিনয়ের চর্চা খুবই আশাব্যাঞ্জকভাবে শুরু হয়েছে। ছিন্ন ছিন্নভাবে থাকা শিল্পীরা একত্রিত হচ্ছে বিভিন্ন প্লাটফর্মে। একতাবদ্ধ হয়ে কিছু করার চেষ্টা করছে তারা। এ কাজে তাদের সাধুবাদ জানাই। তাদের বিভিন্ন প্রদর্শনী দেখে এবং আলোচনা শুনে মনে হলো আমাদের মূকাভিনয়ের একটা নিজস্বতা থাকা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। সে ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই কিছু করা জরুরি। নতুনদের জন্য যা হবে দিকনির্দেশনা ও পথের সন্ধান।
মূকাভিনয়ের রয়েছে নিজস্ব ফর্ম, স্টাইল এবং টেকনিক। যা চিরন্তন বা ইউনিভার্সল। কিন্তু স্থান, কাল পাত্র ভেদে জীবনযাত্রা ভিন্নতর দেখা যায়। আমাদের চাল-বলন, বসন, চলন ইত্যাদির জীবন প্রনালী বা জীবনযাত্রা অন্য জাতি থেকে আলাদা। পোশাকে পরিচ্ছদে, রীতিনীতিতে, চলন বলনে, খাওয়া দাওয়ায় ইউরোপিয়ান অথবা চাইনিজ বা জাপানিজ থেকে ভিন্নতর। এই ভিন্নতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে স্টাইলের পরিবর্তন রয়েছে। নতুন নতুন টেকনিকের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ফর্মের ক্ষেত্রে সবই সমান। অনুভূতির প্রকাশ সর্বকালে সকলের মাঝে সমান। দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ, উচ্ছাস ইত্যাদির বহি:প্রকাশ সকল জাতির কাছেই এক রকম। মানুষের অনুভূতি প্রকাশে ভিন্ন জাতির কাছে কোনো পার্থক্য নেই।
আমরা বলে থাকি ফরাসি মাইম,  বৃটিশ মাইম, আমেরিকান মাইম ইত্যাদি। এমনটা বলার কারণ, এগুলো সব জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা জীবনযাত্রার প্ররিস্ফুটন। যেহেতু বাঙালি জাতির নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে, তাই আমাদেরও একটা ভিন্ন দর্শন থাকা জরুরি। গ্রাম বাংলার জীবনযাত্রা আবহমান কালের। বাঙালির মূকাভিনয়ে এর চিত্র তুলে ধরতে পারলেই অনেকটা পথ এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
আমি দেখেছি আমাদের তরুণ শিল্পীদের অনেকেই ভিনদেশিদের ধারায় আক্রান্ত। এর কারণ যদিও আমরা। আমরা এতো বছরেও নিজেদের ধারা তৈরি করতে পরিনি। তাই এই বাংলায় পাশ্চাত্যের ছোঁয়া লাগার পূর্বে বাঙালি সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধারায় ফিরে আসতে হবে। যে সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠার গল্প আছে, জীবনযাত্রার ছবি আছে তার আলোকেই আমাদের মূকাভিনয় ধরণ নির্ণয় করতে হবে। ওটাই হবে বাঙলা মূকাভিনয়ের বৈশিষ্ট্য, ঐহিত্য এবং স্বরূপ।
এ ক্ষেত্রে শহরকে বেছে নিলে চলবে না। আমাদের গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রাই আমাদের সংস্কৃতি। ভাষা, রাজনৈতিক, সামাজিকতা, কৃষ্টিতে বাঙালিয়ানা থাকতে হবে। চলন-বলন, কথন সব ক্ষেত্রেই এইসব উপকরণ অবলম্বন করে মূকাভিনয় ফর্মে, স্টাইলে এবং টেকনিকে আমাদের জীবন প্রণালী ফুটিয়ে তুলতে হবে। যা হবে বাঙালির মূকাভিনয়। যাকে আমরা বলবো- ‘বাঙলার মূকাভিনয় বা বেঙ্গলি মাইম’।
মূকাভিনয়ের প্রধান উপাদান হলো দেহ এবং মনকে কেন্দ্র করে। ফর্ম, স্টাইল এবং টেকনিকের ব্যবহার হয় দেহের মাধ্যমে এবং মনের দ্বারা। দেহের ভাব ভঙ্গিমার মাধ্যমে প্রকাশ পায় গল্প, স্কেচ এবং বিষয়বস্তু। চিন্তাভাবনার প্রকাশ ঘটে উপস্থাপনার মাধ্যমে। জাতীয়তাবাদের তত্ত্বের উপায়ও আসে চিন্তাধারার মাধ্যমে। আমাদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা অভিজ্ঞতার আলোকে ফুটিয়ে তুলতে পারলেই প্রকাশ পাবে বাঙালির মাইম। যেমন- আমার দেশের মাছ ধরার কৌশল, মাঝি মাল্লাদের দাঁড়টানার চিত্র, কৃষক, কৃষি ও প্রকৃতি, গ্রামীণ নারীর চালচিত্রই আমাদের সম্পদ। যা অন্য জাতির থেকে আলাদা ও ভিন্নতর। সেইগুলোই হবে আমাদের মূকাভিনয়ের অবলম্বন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই মুহূর্তে

২০২২ সাল হবে মেগা প্রকল্প উদ্বোধনের বছর : ওবায়দুল কাদের
রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১
রাজধানীর বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলে চলছে উচ্ছেদে অভিযান
রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১
শৈত্যপ্রবাহ দিয়ে শুরু হতে পারে নতুন বছর
রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১
অসুস্থ বাচ্চার চিকিৎসার টাকা জোগাড়ে কক্সবাজারে এসেছিলেন সেই নারী
রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১
টার্গেটের মধ্যেই পদ্মা সেতু উদ্বোধন : কাদের
রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১
ভোট কেন্দ্র না ছাড়লে সাংবাদিকদের আটকের হুমকি
রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১
বাংলাদেশ টেলিভিশনের আরো ৬টি চ্যানেল চালু হচ্ছে
রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১
৬০ লাখ টাকা দাও, নৌকার মনোনয়ন দেবো !
রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১
টিকিট কেটে নগর পরিবহনে চড়লেন দুই মেয়র
রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১
লঞ্চে আগুন : মালিকসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১
খবরের আর্কাইভ