ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন
প্রদীপের পক্ষে আদালতে জেরা করতে আইনজীবীর অনীহা
কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০৫:০৪:৪৮ পিএম
  • / ৫২ বার খবরটি পড়া হয়েছে

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের পক্ষে একজন সাক্ষীকে জেরা করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তার নিযুক্ত আইনজীবী । বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফায় সাক্ষ্য গ্রহনের শেষ দিনে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ  আদালতে সাক্ষী সার্জেন্ট আইয়ুব আলী’র দেওয়া জবানবন্দীর বিপক্ষে আসামী প্রদীপ কুমার দাশ এর পক্ষে জেরা করার জন্য বলা হলে তাঁর নিয়োজিত আইনজীবী  অ্যাডভোকেট  দাশ গুপ্ত ওই সাক্ষী সেনা সদস্য সার্জেন্ট আইয়ুব আলীকে জেরা করতে এ অপারগতা প্রকাশ করেন।

সাক্ষী, সেনা সদস্য সার্জেন্ট আইয়ুব আলী হলেন-এ মামলায় জবানবন্দী গ্রহণ করা ১২ তম সাক্ষী। একপর্যায়ে আসামি প্রদীপ কুমার দাশ নিজে অথবা অন্য কোন আইনজীবী দিয়ে সাক্ষী সার্জেন্ট আইয়ুব আলীকে জেরা করবেন কিনা-জানতে চাইলে প্রদীপ কুমার দাশ জেরা করবেন না বলে আদালতের কাছে অস্বীকৃতি জানান।

এর আগে বুধবার সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে আাসামী প্রদীপ কুমার দাশ এর নিয়োজিত আইনজীবী  অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত মেজর (অব:) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার বিষয়ে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার (ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স -ডিজিএফআই) তৈরি করা প্রতিবেদন ও ডকুমেন্টস তলব করে এনে মামলার মূল নথীর সাথে সংযুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল আবেদনটি শুনানি করে বিষয়টি জুডিসিয়ারী বিষয় না হওয়ায় আবেদনটি নাকচ করে দেন। তবে সাক্ষী সার্জেন্ট আইয়ুব আলীকে অন্যান্য আসামীর আইনজীবীরা যথারীতি জেরা করেন।
মামলার ১৩ তম সাক্ষী কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী’কে আসামী প্রদীপ কুমার দাশ এর পক্ষে তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট  রানা দাশ গুপ্ত ‘ডিক্লাইন্ট’ করেন। অর্থাৎ অন্যান্য পূর্বতন আসামীর পক্ষে সাক্ষী ডা. শাহীন আবদুর রহমানকে যেসব জেরা করা হয়েছে, একই জেরা তার জন্য প্রযোজ্য বলে গণ্য করা হবে।
রাষ্ট্র পক্ষে মামলাটির আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মোজাফফর আহমদ, এপিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন আহমদ সাক্ষীদের জবানবন্দী গ্রহণ করেন।
এসময় বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস এর আইনজীবী অ্যাডভোকেট  মোহাম্মদ মোস্তফা, অ্যাডভোকেট  মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট  মাহবুবুল আলম টিপু, অ্যাডভোকেট  ফারহানা কবির চৌধুরী, অ্যাডভোকেট  মোহাম্মদ ছৈয়দুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট  এসমিকা সুলতানা প্রমুখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আসামীদের পক্ষে আদালতে অ্যাডভোকেট  দিলীপ দাশ, অ্যাডভোকেট শামশুল আলম, অ্যাডভোকেট  মমতাজ আহমদ (সাবেক পিপি) অ্যাডভোকেট  মোহাম্মদ জাকারিয়া, অ্যাডভোকেট  চন্দন দাশ, অ্যাডভোকেট এম.এ বারী, অ্যাডভোকেট  ওসমান সরওয়ার শাহীন, অ্যাডভোকেট  মোশাররফ হোসেন শিমুল, অ্যাডভোকেট  ইফতেখার মাহমুদ প্রমুখ সাক্ষীদের জেরা করেন।
এর আগে আরো ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন করা হয়। যাঁরা আগে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তারা হলো-মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী সাহিদুল ইসলাম সিফাত, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ আমিন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও হাফেজ শহীদুল ইসলাম, আবদুল হামিদ, ফিরোজ মাহমুদ ও মোহাম্মদ শওকত আলী, হাফেজ জহিরুল ইসলাম, ডা. রনধীর দেবনাথ।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সেরেস্তাদার এম. নুরুল কবির জানান-সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটানা ৩ দিন সাক্ষ্য দিতে আদালতে উপস্থিত থাকার জন্য চার্জশীটের ২৯ নম্বর পর্যন্ত আরো মোট ২৩ জন সাক্ষীকে সমন দেওয়া হয়েছিলো। তারমধ্যে প্রতিদিন ৪ জন করে সাক্ষী আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। সাক্ষীরা যথারীতি আদালতে উপস্থিত থাকলেও আসামীদের পক্ষে সাক্ষীদের দীর্ঘ জেরার কারণে সমন দেওয়া সকল সাক্ষীদের সাক্ষ্য নির্ধারিত দিনে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানান-এপিপি ও কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট  জিয়া উদ্দিন আহমদ।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সোমবার থেকে সাক্ষ্য গ্রহণকালে মামলার ১৫ জন আসামীকেও কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়।
তারা হলেন, বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া । কনস্টেবল সাগর দেব, এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, পুলিশের মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই মুহূর্তে

৪১ বছরেও চালু হয়নি ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
ট্রেনে পাথর নিক্ষেপকারীর তথ্য ও ধরিয়ে দিলে পুরস্কার
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
মাগুরায় ক্ষুদে ক্রিকেটার বাছাই
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ৪৩ জনের প্রাণহানি
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
বিব্রত আলমগীর, প্রতিবাদ করল মেয়ে
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মেয়র আতিকুলের বিরুদ্ধে মামলা
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ৭১ মামলা, আটক ৪৫০
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
শপথ নিলেন হাইকোর্টে স্থায়ী হওয়া ৯ বিচারপতি
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
খবরের আর্কাইভ