ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন
দেশের সব অর্জনই এসেছে বঙ্গবন্ধু ও হাসিনার হাত ধরে: এস এম কামাল হোসেন
কলকাতা টিভি ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১, ০৫:৫৬:৪৬ পিএম
  • / ৬২ বার খবরটি পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এক ও অভিন্ন। একটিকে বাদ দিয়ে আরেকটির কথা কল্পনা করা যায় না। বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কখনো পূর্ণতা পায়না।পাকিস্তানের দুঃশাসন-বৈষম্যমূলক অত্যাচারের বিরুদ্ধে মুসলিম লীগের প্রগতিশীল নেতাকর্মীরা ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি এবং শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে প্রতিষ্ঠা করেন আওয়ামী মুসলিম লীগ। জেলে থেকেই এ কমিটির প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করা হয় শেখ মুজিবকে। শামসুল হক সাহেব অসুস্থ হলে বঙ্গবন্ধু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৫৩ সালে দ্বিতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।

ঐতিহাসিক ৬ দফা মুক্তির সনদ সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে আর তাই ১৯৫৫ সালে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে করা হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছিলো আর আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলো ছাত্রলীগ।বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা পেশ করার পর বঙ্গবন্ধু ৮ বার গ্রেফতার করে । পাকিস্তানের সামরিক শাসক ৬ দফার জবাব দিয়েছিলো অস্ত্রের বুলেট দিয়ে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে ক্যান্টনমেন্টে বিচারের নামে প্রহসন করে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিতে ঝুলানোর ষড়যন্ত্র করা হয় তবুও তিনি মাথা নত করেনি। এই ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে দেশের ছাত্র-জনতা, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বিশেষ করে তখনকার ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ৬ দফার ভিত্তিতে ১১ দফা প্রনয়ণ করে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। দেশের ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুকে ছাড়তে বাধ্য হয় এবং বঙ্গবন্ধুকে সসম্মানে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িত পৌঁছে দিয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্মরণসভায় পূর্ব পাকিস্তানের নাম পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু বলেন, আজ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের নাম হবে বাংলাদেশ।

৭০ এর নির্বাচন প্রসংঙ্গে এস এম কামাল বলেন, ১৯৭০ এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগে নির্বাচনের অংশ নেয় এবং বাংলার জনগণ আওয়ামী লীগের পক্ষে রায় দেয়। সেই নির্বাচনে পূর্ব বঙ্গের মানুষ তাদের একমাত্র অভিভাবক বঙ্গবন্ধুকে নির্বাচিত করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জেতার পর পাকিস্তান ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করে। চূড়ান্ত লড়াই হলো, ৯ মাস যুদ্ধ হলো, এর আগে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘ এবারের সংগ্রাম- মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম- স্বাধীনতার সংগ্রাম”। চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দিলেন মুক্তিযুদ্ধের জন্য। ২৬ মার্চ আনুষ্ঠানিকতা করলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা করলেন বঙ্গবন্ধু। আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর জীবনী লিখলে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের ইতিহাস চলে আসে। বাংলাদেশের ইতিহাস লিখতে গেলে বঙ্গবন্ধু জীবনী চলে আসে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

বাকশাল সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু যখন প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশ গড়ার দায়িত্ব নিলেন, তখন বাংলাদেশ ছিলো একটি ধ্বংসস্তুপ। দেশের কোথাও কিছু ছিলো না। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন, ব্যাংকে টাকা নেই। ভারতে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১ কোটি লোক ফিরে আসলো। তাদের ঘর-বাড়ি নেই। দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু চারদিকে হাহাকার আর ধ্বংসস্তুপের বাংলাদেশ পেলেন। এমন অবস্থায় অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষে মুক্তিযু্দ্ধের পক্ষের সকল দলকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি ২য় বিপ্লবের ঘোষণার মধ্য দিয়ে একটি জাতীয় প্লাটফর্ম করার জন্য কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ করলেন। আওয়ামী লীগকে বিলুপ্ত করা হয় নাই। একটা জোট গঠন করা হয়েছিল। আজকে যেমন মহাজোট রয়েছে, ৪ দলীয় জোট আছে, এরকম একটা জোট করলেন বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি বলেন, পাকিস্তানের শাসক আইয়ুব খানের যেমন মূল লক্ষ্য ছিলো শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগকে ধ্বংস এবং ব্যান্ড করা। আইয়ুব খান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করলেন, বঙ্গবন্ধুকে সেদিন ফাঁসিতে ঝোলানোর চেষ্টা করেছিলেন, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর জিয়াউর রহমান, আইয়ুব খানের স্টাইলে, আইয়ুব খানের প্রতিনিধি হিসেবে আওয়ামী লীগের সাড়ে ৪ লাখ নেতাকর্মীকে প্রথমে গ্রেফতার করলেন। কাউকে গুম, কাউকে খুন করলেন। সেনাবাহিনীর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অফিসারদের খুন করলেন, বিমান বাহিনীর অফিসারদের খুন করলেন। এমনকি দেশটাকে আবার পাকিস্তানের ধারায় ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়া হলো। আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বিধা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলো। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সারা জাতি অন্ধকারে পতিত হলো।

বঙ্গবন্ধু বিহীন আওয়ামী লীগ কতটা সফল হতে পেরেছে দেশ গঠনে- এ প্রসংঙ্গে এসএম কামাল হোসেন বলেন, ১৯৮১ সালে মহান আল্লাহর আশীর্বাদ স্বরূপ আমাদের মাঝে ফিরে আসলেন বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা। জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে আসার পর আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করেন। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যে যেখানে আছে; তাদেরকে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনে দেশটাকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করলেন। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করলেন। বঙ্গবন্ধু যে উদ্দেশ্য নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করা, দেশের জন্য কাজ করা, বাঙালির জন্য কাজ করা। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় দেশ ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি ফারাক্কা চুক্তি করেছেন, সীমান্ত চুক্তি করেছেন, গঙ্গার পানি চুক্তি করেছেন, দেশকে স্যাটালাইটের যুগে প্রবেশ করিয়েছেন, পারমাণবিক বিশ্বে প্রবেশ করিয়েছেন। ফলে আজকের বিশ্ব নেতৃত্ব শেখ হাসিনার প্রশংসা করছেন। যারা বাংলাদেশকে একসময় বিদ্রুপ করে তলাবিহীন ঝুড়ি বলত, সে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান আজকে বলছে, বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমি মনে করি, বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন এর সবই আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার হাত ধরে হয়েছে। আওয়ামী লীগ এদেশের জনগণের চোখের ভাষা বোঝে। আওয়ামী লীগ দেশের জনগণকে নিয়ে কাজ করে, জনগণের জন্য রাজনীতি করে। বঙ্গবন্ধু মানুষের মনের ভাষা, চোখের ভাষা বুঝতেন। তিনি মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাও আওয়ামী লীগকে জনগণের আওয়ামী লীগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার প্রমাণ পাওয়া যায়, এই করোনার মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নিজেদের জীবনকে তুচ্ছ করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমাদের জাতীয় নেতা মোহাম্মদ নাসিম, আবদুল মতিন খসরু, সিলেটের সাবেক মেয়র কামরান, সাহারা খাতুনসহ প্রায় সাড়ে ৪’শ থেকে ৫শ নেতাকর্মী করোনায় মৃত্যু বরণ করেছেন।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সারাদেশে ১ কোটি ২৫ লাখ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা নগদ দেয়া হয়েছে। এখনও আওয়ামী লীগের ত্রাণ উপকমিটি প্রতি মুহূর্তে কাজ করে চলছে। আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে গর্ববোধ করি। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। আওয়ামী লীগ বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

লেখক: সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

নিউজটি শেয়ার করুন

এই মুহূর্তে

স্বতন্ত্র কোম্পানীর ভর্তুকির জন্য চীনকে শাস্তি দিতে প্রস্তুত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
কুড়িগ্রামে কবরে ৪ মাস পরেও নারীর লাশ অক্ষত
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
৫র্ম শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা, আটক ১
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
দোহারে পরিচ্ছন্ন কর্মীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ভারতীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিবস পালিত
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
বাংলা‌দেশ-ভার‌ত সম্পর্ক র‌ক্তের বন্ধ‌নের, সহ‌যো‌গিতা আগামী‌তেও থাকবে
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
৮নং দুর্গাপুর ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হতে চান আছিফ রহমান শাহীন
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ, কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা একই সূত্রে গাঁথা
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ইভ্যালির সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী গ্রেফতার
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
খবরের আর্কাইভ