ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন
সড়ক নিরাপদ চাই- তোষিকে কাইফু
বাংলাদেশ ব্যুরো
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২১ জুন, ২০২১, ০৪:২৬:৩৬ পিএম
  • / ২৪৫ বার খবরটি পড়া হয়েছে

সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের গভীর শোক, ক্ষত সৃষ্টি করে না ,আর্থিকভাবেও পঙ্গু করে ফেলে ওই পরিবারকে। কোন কোন দূর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি প্রাণ হারান। তখন ওই পরিবারের যে কী অবস্থা হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর যারা পঙ্গুত্ববরণ করে ,তাদের পরিবারের অবস্থা আরো করুণ,আরো শোচনীয়। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসা। খাওয়া-পরা জোটাতেই হিমসিম খাচ্ছে এসব পরিবারের সদস্যরা।

বাংলাদেশে ২০২০ সালে সড়ক দূর্ঘটনায় ৪ হাজার ৯৬৯ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৮৫ জন। এসময় মোট ৪০৯২ টি সড়ক র্দূঘটনা ঘটে (সূত্র: নিরাপদ সড়ক চাই(নিসচা সংস্থা )।

অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর পরসিংখ্যানে বলা হয়েছে যে,বিশ্বে সড়কে প্রতি বছর প্রায় ১.৩ মিলিয়ন মানুষ মারা যায় এবং ২০ থেকে ৫০ মিলিয়ন এর মধ্যে অ-প্রাণঘাতী জখম থাকে।সড়ক নিরাপত্তা গ্লোবাল স্থিতি প্রতিবেদনে ১৭৮ টি দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ফলাফলে দেখা যায় যে সড়কে ট্রাফিক দূর্ঘটনার একটি গুরুত্বর্পূণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা রয়ে গেছে,বিশেষত স্বল্প আয়ের এবং মধ্যম আয়রে দেশগুলোর জন্য।

বাংলাদেশে চালক ও পথচারী উভয়ের জন্য কঠোর বিধান যুক্ত করে কার্যকর করা হয়েছে বহুল আলোচিত “সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮”। সড়ক দূর্ঘটনা হ্রাস ও জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০ অর্জনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার এ আইন প্রণয়ন করে।

বাংলদেশের বর্তমান আইনটির এখনও কিছু দূর্বল দিক রয়েছে যার জন্য
সড়ক ব্যবহারকারীরা আইন লঙ্ঘন ও দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। “সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮” চলতি বছরে সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছেন সরকার।গাড়ির গতি নিদিষ্ট করে দেওয়া,চালক ও যাত্রীদের জন্য সিটবেল্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক,মানসম্মত হেলমেটের ব্যবহার ,শিশুদের জন্য নিরাপদ আসন নিশ্চিত করা ইত্যাদি সংশোধিত আইনে অন্তর্ভূক্ত করা একান্ত জরুরী।

যে কোন আইন স্পষ্টভাবে প্রধান সড়কের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । আইনের ধারা ৪৪ সংশোধন করে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত গতিসীমার বাইরে মোটরযান চালনা বা অন্য কাউকে চালনার অনুমতি প্রদান করবে না। যেমন: শহরের রাস্তায় সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। মহাসড়কে গণপরিবহন,হালকা মটরযান এবং মোটরসাইকেলের জন্য গতিসীমা হবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার এবং ট্রাক ও পণ্য পরিবহনের জন্য সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ৭০ কিলোমিটার। অধিক জনবহুল এলাকা বা যেখানে বেশিসংখ্যক মানুষ পথচারি চলাচল করে সেখানে মটরজানের গতিসীমা হবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার । গাড়িচালকদের অবশ্যই তাদের যানবাহনগুলো ধীরে চালাতে হবে যাতে তারা রাস্তায় নিরাপদে থামতে পারে ।

ধারা ৪৯-এর প্রথম অংশের উপ-ধারা কার্যকারী সিটবেল্ট এর সংযোজন করা।
প্রতিটি যানবাহনের চালক সহ প্রত্যেক যাত্রীর জন্য একটি কার্যকারী সিটবেল্ট থাকা উচিত। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের সমস্ত যানবাহনে বিশেষত পুরানো যানবাহনে নাও থাকতে পারে। এক্ষেত্রে সুপারিশ হল এই আইনের মাধ্যমে যেন সমস্ত চালকসহ সামনের ও পিছনের আসনের সকল যাত্রীর জন্য একটি ব্যবহারযোগ্য সিটবেল্ট থাকা ও ব্যবহার নিশ্চিত করা। সকল যাত্রী যদি সিটবেল্ট বেঁধে যথাযথভাবে সুরক্ষিত না থাকে তবে যাত্রীসহ চালককে জরিমানা করার বিধান কার্যকর করা।

ধারা ৪৯-এর প্রথম অংশের উপ-ধারা (ক)-এ অ্যালকোহল বা মদ্যপান করার প্রভাবে মোটরযান চালানোর বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান অর্ন্তভূক্ত করা । মদ্যপান করে গাড়ি চালানো সড়ক দূর্ঘটনার সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং এর ফলে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ারও প্রবল সম্ভাবনা থাকে । সাধারণত গাড়িচালকদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুসারে কোন ব্যক্তির অ্যালকোহলের মাত্রা ০.০২ গ্রাম /ডিএল ছাড়িয়ে গেলে সে কোন মোটরজান চালাতে পারবে না। এটি নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরিমাণ পদ্ধতি দ্বারা যাচাই করতে হবে।

ধারা ৪৯-এর প্রথম অংশের উপ-ধারা (চ) এর জন্য মোটরসাইকেল চালক,মোটরসাইকেলের যাত্রী এবং হেলমেট ব্যবহার বিষয়ে বিশ্বের সেরা অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে কিছু ধারা অর্ন্তভূক্ত করা। যেমন, কোন চালক মোটরসাইকেলে একাধিক যাত্রী বহন করতে পারবে না। মটরসাইকেলের চালক ও যাত্রীকে অবশ্যই সব সময় মান সম্মত হেলমেট পরতে হবে। হেলমেটে থাকা স্ট্র্যাম বা ফিতা দিয়ে থুতনি বা চিবুকের সাথে যথাযথভাবে আটকাতে হবে । হেলমেট অবশ্যই জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। অনুমোদবিহীন সমস্ত হেলমেট কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

শিশুদের জন্য নিরাপদ আসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ধারা ৪৯-এর প্রথম অংশে একটি নতুন উপ-ধারা সংযুক্ত করা প্রয়োজন। একজন বয়স্ক ব্যক্তির সিটবেল্ট কোন শিশুকে সুরক্ষা দেয় না । শিশুদের দূর্বল অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সর্বোত্তম সুরক্ষা প্রদান করতে হবে । শিশুদের জন্য নিরাপদ আসন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তাদের আঘাতের ঝুঁকি সর্বনিম্ম হয়। শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত আসন ব্যবস্থা করলে শিশুদের আঘাতপ্রাপ্ত হবার ঝুঁকি বেশি হয়।

সড়ক নিরাপত্তা ও সড়কে নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি ঢাকা আহছানিয়া মিশন কাজ করে যাচ্ছে। এবছর সরকার সড়ক পরিবহন আইনটি সংশোধনের উদ্যেগ নিয়েছে যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। জনগণ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় রাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যার-ই প্রতিফলন দেখা যায় গত ২৩ মে ঢাকা আহ্ছানয়িা মিশন কর্তৃক আয়োজিত “সড়ক ও নিরাপদ জীবন” শিরোনামে লাইভ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে প্রধান অতিথি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি আশ্বস্ত করেন যে ,বর্তমান আইনের উপর যে সকল সুপারিশগুলো দাখিল করা হয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করে আইনের যথাযথ সংশোধন করা হবে।

আলোচ্য বিষয়গুলো সংশোধনীন আইনে অর্ন্তভূক্ত করে আইনটিকে আরো উন্নত করা হবে বলে আশা করি।

লেখক:
তোষিকে কাইফু
এডভোকেসী অফিসার (কমিউনিকেশন), রোড সেইফটি প্রকল্প
স্বাস্থ্য সেক্টর, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই মুহূর্তে

স্বতন্ত্র কোম্পানীর ভর্তুকির জন্য চীনকে শাস্তি দিতে প্রস্তুত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
কুড়িগ্রামে কবরে ৪ মাস পরেও নারীর লাশ অক্ষত
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
৫র্ম শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা, আটক ১
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
দোহারে পরিচ্ছন্ন কর্মীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ভারতীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিবস পালিত
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
বাংলা‌দেশ-ভার‌ত সম্পর্ক র‌ক্তের বন্ধ‌নের, সহ‌যো‌গিতা আগামী‌তেও থাকবে
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
৮নং দুর্গাপুর ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হতে চান আছিফ রহমান শাহীন
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ, কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা একই সূত্রে গাঁথা
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ইভ্যালির সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী গ্রেফতার
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
খবরের আর্কাইভ