ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন
সাবানের ময়লাটা নিয়ে একটু চিন্তা করি !
কলকাতা টিভি ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১, ০১:৫৭:৪২ পিএম
  • / ৩২৩ বার খবরটি পড়া হয়েছে

আমরা লক্ষ করেছি, আমাদের মধ্যে ভুলে যাওয়া এক অসুস্থতা বাসা বেঁধেছে। আমার মধ্যে এর মাত্রাটা একটু বেশি। আমার কাজিন ডাঃ শাওন আহমেদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছে, কোভিডে আক্রান্ত সেই যুবক ব্যাংকারের কথা খুব মনে পড়ে। আইসিউতে যিনি কাকুতি মিনতি করে বলছিলেন- ‘ডাক্তার’! আর কিছুদিন কি আমাকে বাঁচিয়ে রাখা যায়না? আমার স্ত্রী প্রেগন্যাট, সন্তানের মুখটা অন্তত দেখার সুযোগ করে দিননা প্লিজ … আমরা পারিনি। তারপর লিখেছে, আচ্ছা এটা থাক, সেই ‘মা’ এর কথা তো মনে আছে যে কোভিডে আইসিউতে ধীরে ধীরে মারা যাবার সময় বলছিলো, ‘স্যার, আমার বাচ্চার অবস্থা বেশি খারাপ, আমার অক্সিজেনটাও তাকে দিন, ও অন্তত বাঁচুক’। আমরা দুজনের কাউকেই বাঁচাতে পারিনি… হ্যা, আমরা সব ভুলে যাব। কারণ আমরা অনেক ব্যস্ত। অথচ আমরা সবাই যদি একমাস ঠিক মতো মাস্ক পরি, সচেতন হই, কোভিড নির্মূল হতে বাধ্য। কিন্তু এসবের জন্য আমাদের একেবারে সময় নাই।

গলদটা একদমই গোড়ায় লেগে আছে। অর্থাৎ ময়লটা হাতেও নয়, পানিতেও নয়, সাবানেই রয়েছে। বাংলাদেশে করোনার প্রথম ঢেউ যখন শুরু হয় তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশেনা ও কার্যকর পদক্ষেপে জীবন-জীবিকার লড়াইয়ের সঙ্গে করোনার প্রথম ঢেউ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছিলেন। ফলে দেশে গতবছর করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতা যেমন কিছুটা কম ছিল, মৃত্যুও কম ছিল। ইউরোপ আমেরিকায় যখন মৃত্যুর মিছিল, বাংলাদেশে তখন কথায় মিছিল। প্রতিবেশী দেশ ভারতে যখন করোনার সুনামি তখন বাংলাদেশ ভুলে যাওয়া রোগাক্রান্তরা নানা দোহাই দিয়ে বলতেন আমাদের কিছুই হবে না। যারা বলতেন আমাদের কিছুই হবে না তারাই আবার জনস্বার্থে সরকারের দেওয়া নির্দেশনা লকডাউনকে হাস্যরসাত্মক করে বেঙ্গ করতেন। অথচ আজ করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যা দেখে লিখতে হচ্ছে সমস্যাটা সাবানেই রয়েছে! ভাগ্য আমাদের অনেক সহায়তা করেছে কিন্তু আমরা ভাগ্যকে সহযোগিতা করিনি। স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে সরকার যা বলছে আমরা ঠিক তার উল্টোটা করেছি। সরকার বলেছে মুখে মাস্ক পরতে, আমরা পরেছি থুতনিতে। সরকার বলেছে গণপরিবহনে এক সিট ফাকা রেখে চলতে কিন্তু গণপরিবহন বলছে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে কোন প্রজ্ঞাপন নেই, যত পারেন বাসে উঠেন আর দাঁড়িয়ে থাকেন। সরকার বলেছে সীমিত পরিসরে অফিস খোলা রাখতে, আমরা অফিসকে সীমিত করে পরিসরকে বড় করেছি। তাই নানা সময়ে সরকারের সাধারণ ছুটি, বিধিনিষেধ, কঠোর বিধিনিষেধ ইত্যাদি নানান চেষ্টা হলেও কোনোটাই কার্যকর ফলাফল ঘরে উঠাতে পারিনি। আমরা একা পারিনি তা কিন্তু নয় সরকারকেও পারতে দেইনি। সাধ্যমতো সরকারের বিধিনিষেধ অমান্য করে সফল হয়েছি। চলমান লকডাউন যত কঠোরই হোক, তা সঠিক প্রয়োগ না হলে করোনা ঠেকাতে পারবে না। লকডাউন দেয়া হয় সাধারনত করোনার বিস্তারের চেইনটাকে ভাঙতে, ঢেউয়ের তীব্রতা কমাতে। করোনাকে ঠেকাতে আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। এটার কোন বিকল্প নাই। তবে আমাদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন হওয়াটা জরুরী।

গত বছরের মার্চ মাস থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট গুটি কয়েক ব্যক্তির দুর্নীতি, অনিয়ম আর মন্ত্রণালয়ের অব্যবস্থাপনা পুরো বছর ছিল আলোচনার শীর্ষে। এই সময়ের আলোচিত সাহেদ-সাবরিনাসহ আরো অনেকের কথা আমরা ভুলে গিয়েছি। শুধু মনে রেখেছি সরকারের কথা। কেননা, সরকার আমাদের বাঁচাতে চায়। যারা মেরে ফেলতে চেয়েছিল তাদের কথা চমৎকার ভাবে ভুলে গিয়েছি। করোনা মোকাবেলা করতে হলে শুধু সরকার একা নয়, সবাইকে মিলেই কাজটা করতে হবে। কিন্তু দায়িত্ব দিতে হবে একমাত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ঘিরে যে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কথা পত্র-পত্রিকায় বলা হচ্ছে তা রোধ করার জন্য দক্ষতার সহিত নেতৃত্ব দিতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে।

ঈদ উপলক্ষে সরকার সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার কথা চিন্তা করে লকডাউন শিথিল করে দিয়েছে, এটা সাময়িক আনন্দ দিলেও, বিষাদের সুর যেন বেঁঝে না উঠে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা বিধিনিষেধ শিথিল করে দেওয়ার কয়েক দিন পরই করোনার নতুন ধরন ডেলটার সংক্রমণ বেড়েছে, ফলে নতুন ভাবনায় পড়ছে এসব দেশের সরকার। নিতে হচ্ছে ইউটার্ন। ইসরায়েল, নেদারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইডেন , অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রেরমত দেশসমূহ নতুন করে লকডাউন বা শাটডাউন এর পথে হাটছে। সুতরাং বাবারা লাইনে থাকিস। নিজে বাঁচতে না চাইলে কেউ বাঁচাতে পারবে না। মনে রাখতে হবে জীবনটা কিন্তু আপনার আমার, সরকারের না। সরকার আপনার জীবন রক্ষায় পদক্ষেপ নিবে কিন্তু দায়িত্ব থাকবে আপনার নিজের উপরেই। তাই নিজের সুরক্ষা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু এই ব্যাপারে আমাদের কোন ভাবনা নেই। তার চেয়ে বড় কথা হল সময় নেই। করোনা পৃথিবী থেকে এত তাড়াতাড়ি বিদায় নিচ্ছে বলে মনে হয় না? ফলে আমাদের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানাই হল সবচেয়ে বড় চিকিৎসা।

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি গ্রামে বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। লকডাউন সীমিত, কঠোর বা সর্বাত্মক যাই হউক না কেন, এমনটা মনে করার কোনও কারণ নেই যে করোনা সীমিত হয়ে আছে। আপনি যতই জীবিকার কথা বলেন না কেন, জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই। বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বেশি মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ। এখন সিদ্ধান্ত আপনার।

সাবান যতই আপনার ময়লা পরিষ্কার করে কিন্তু সাবানে যদি ময়লা থাকে সেটা কি পরিষ্কার করবে? জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান তার এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, পাকিস্থানিরা আমার সব নিয়ে গেছে, তবে কিছু চোর রেখে গেছে। তারা কি এখনো আছে! মনে হয় আছে। ওরা লাইনে নেই। ভূমিহীন অসহায় মানুষদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার “আশ্রয়ণ প্রকল্প” এর কিছু অংশের কাজ নিন্মমানের হওয়ায় বৃষ্টির প্রভাবে ভেঙ্গে গিয়েছে। এটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার অপপ্রচার ও সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার ফলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তদন্ত করে দেখা গিয়েছে “আশ্রয়ণ প্রকল্প” এর মোট কাজের মধ্যে ০.০২৫ শতাংশ কাজের অনিয়ম পাওয়া গিয়েছে, যাদের মধ্যে অনেক সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী ওএসডি হয়ে বিচারের সম্মুখীন হয়ে আছেন। আমার প্রশ্নটা অনিয়ম নিয়ে না? এই অনিয়মটা করছেটা কে সেটা নিয়ে। এই অনিয়মটা যে বা যারা করছেন তারা কিন্তু এই দেশের সন্তান। সুতরাং সমস্যাটি কিন্তু আমাদের মধ্যেই রয়েছে, আমাদের নৈতিক শিক্ষায় রয়েছে। আমরা যতই শিক্ষিত হচ্ছি ততই অশিক্ষায় ধাবিত হয়ে যাচ্ছি। কেননা, আমাদের অর্থনীতির গতিটা মিশ্র ধারার চলছে। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয় অশিক্ষিত হকার, টাইপিষ্ট, মুরগীওয়ালা, মুচি ইত্যাদি থেকে কোটিপতি ও কোন রাজনৈতিক দলের বড় নেতা বনে যাওয়া, মাদক কারবারী করে সম্পদের পাহাড় বানিয়ে নেওয়া ইত্যাদি। এই সমস্থ চিত্র যখন চোখের সামনে চলে আসে তখন ঐ শিক্ষিত ব্যক্তিটা নিজেকে অপরাধী মনে করে, সমাজ তাকে চিনতে চায় না, বুঝতে চায় না।

মাদক ব্যবসায়ী অর্থের বিনিময়ে হয় মাদক বিরোধী প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি, অশিক্ষত সম্পদশালী বনে যাওয়া ব্যক্তিটি হন মসজিদ, মন্দির, গীর্জার সভাপতি। আমি এমনও দেখেছি বিদ্যালয়ের সভাপতি স্বাক্ষর দিতে জানেন না! হায় সমাজ! এই সমাজ কে সৃষ্টি করেছে? নিশ্চয় আমরা। আমাদেও এই চক্রাকারে অসহযোগিতায় শিক্ষিত সমাজের একটি অংশ অশিক্ষায় ধাবিত হয়ে যাচ্ছে। এক মা খুব গর্ব এবং আক্ষেপ করে বলছেন, আমার সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছি কিন্ত টাকার মেশিন করিনি। ঐ যে দেখেন, ঐ ছেলেটি একটি অফিসের পিওন অথচ তার কত সম্পদ! আরেক অশিক্ষিত রাজনৈতিক নেতা বলেন, টাকা হলে সব কেনা যায়! আরে পাগলা টাকা হলে কি আর নৈতিক মূল্যবোধ কেনা যায়। ও আচ্ছা , ময়লা নয় সাবানের কথাটুকু আরেকটু ভাবুন।

আর আই সরকার
লেখক ও এমফিল গবেষক।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই মুহূর্তে

স্বতন্ত্র কোম্পানীর ভর্তুকির জন্য চীনকে শাস্তি দিতে প্রস্তুত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
কুড়িগ্রামে কবরে ৪ মাস পরেও নারীর লাশ অক্ষত
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
৫র্ম শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা, আটক ১
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
দোহারে পরিচ্ছন্ন কর্মীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ভারতীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিবস পালিত
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
বাংলা‌দেশ-ভার‌ত সম্পর্ক র‌ক্তের বন্ধ‌নের, সহ‌যো‌গিতা আগামী‌তেও থাকবে
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
৮নং দুর্গাপুর ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হতে চান আছিফ রহমান শাহীন
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ, কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা একই সূত্রে গাঁথা
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ইভ্যালির সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী গ্রেফতার
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
খবরের আর্কাইভ