ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:০৫ অপরাহ্ন
বিশ্বের সফল নেতৃত্বের নাম হচ্ছে শেখ হাসিনা
এস এম কামাল হোসেন
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০৫:২২:০১ পিএম
  • / ২২৭ বার খবরটি পড়া হয়েছে

বঙ্গবন্ধু বিহীন বাংলাদেশে একটি সফলতার নাম হচ্ছে শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি- যিনি বাঙালিকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন, এবং বিশ্বের মানচিত্রে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের জন্ম দিয়েছেন। সেই স্বাধীন ভূখণ্ডের প্রতিষ্ঠিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ক্রীড়া নায়ক, আওয়ামী লীগের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা খন্দকার মোশতাক গংরা এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে পাকিস্তানের এজেন্ট জিয়াউর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রচারণায় সামরিক বাহিনীর কতিপয় উচ্চ বিলাসী সেনা অফিসার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং তার সারা জীবনের অনুপ্রেরণা, উৎসাহ, শক্তি, সাহস, মহীয়সী নারী বেগম মুজিবসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে হত্যা করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করে, বাংলাদেশকে হত্যা করে। খলনায়ক জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ভাবধারায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করা হয়। হরণ করা হয় বাংলাদেশের মানুষের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা। সেই সময়ে জিয়াউর রহমান রাত ১০ টা থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত কার্ফু দিয়ে দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সেনা অফিসারদের বিচারের নামে প্রহসন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে এবং বিমান বাহিনীর ৫৫১ জন অফিসারকে হত্যা করে, আওয়ামী লীগের সাড়ে চার লক্ষ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার, গুম করে বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল, অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করে, বাংলাদেশকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তানি ভাবধারায়।

অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমানের দুঃশাসনের বাংলাদেশ, অন্ধকার যুগের বাংলাদেশ থেকে কিভাবে স্বর্ণযুগের বাংলাদেশে প্রবেশ করলো এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের সেই অন্ধকার যুগের আলোর দিশারী হিসেবে আগমন ঘটে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগের হাল ধরেন‌ এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটের অধিকার, ভাতের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই-সংগ্রাম শুরু করেন, যাহাতে বাংলাদেশের মানুষ তাদের হারিয়ে যাওয়া অধিকার ফিরে পায়। এরপর ১৯৯৬ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। তখন যে বাংলাদেশ ছিল খাদ্যঘাটতির বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে খাদ্য উদ্বৃত্তের বাংলাদেশে পরিণত করে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তি করেন,গঙ্গার পানি চুক্তি করেন, দেশের মানুষ ফিরে পেতে থাকে তার হারিয়ে যাওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মৌলিক অধিকার।

এরপর আবার নতুন করে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামাতের গভীর‌ চক্রান্ত করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় যাওয়ার পথকে রুদ্ধ করে দেয়, সেদিন জামাত-বিএনপি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে তারা আবারও ফিরিয়ে নিয়ে যায় পাকিস্তানের ভাবধারায়, এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমানের শাসন আমলের অন্ধকার যুগে।

খালেদা-নিজামী ক্ষমতায় এসে আবার নতুন করে শুরু করে পাকিস্তানী স্টাইলে হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার, নারী ধর্ষণ, খুন, গুম, হত্যা এবং বাংলাদেশি সংখ্যালঘুদের উপর হামলা। বাংলাদেশ আবার ফিরে যেতে থাকে সেই অন্ধকার যুগে। খালেদা-নিজামী জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ ৫ বারের মত দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা করে তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়, ধর্ষণ করা হয় মা-বোনদের। তখন সারা বাংলাদেশে একযোগে একই দিনে ৫০০টি বোমা মেরে ৬৩টি জেলাকে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। বিচারককে কোটের বারান্দায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ২১ বার হত্যা করার জন্য হামলা করা‌ হয়েছে। সর্বশেষ ২০০৪ সালের একুশে আগষ্টে আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। ওই হামলায় আমাদের নারী নেত্রী আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২৬ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারায়। আল্লাহর রহমতে সেদিন বাংলার মানুষের দোয়ায় শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে যান। মূলত বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল।

খালেদা-নিজামীর জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশের মানুষের জীবনের কোন নিরাপত্তা ছিল না, মানুষ ভয়ে মুখ খুলত পারতো না। মানুষের দিন-রাত কাটতো আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে, না জানি কখন কি হয়।

এমনই পরিবেশ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে,সেই অন্ধকার যুগ থেকে আলোর দিশারী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যায় বিশ্বের মর্যাদাশীল অবস্থায়। বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে।

খালেদা-নিজামীর জোট সরকারের আমলে, যে বাংলাদেশে ছিল, ক্ষুধা-দারিদ্র্য দুর্ভিক্ষ-মাদকের, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্বে বিশ্বের দরবারে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, বাংলাদেশ হয়েছে এখন উন্নত বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল।

বঙ্গবন্ধু বিহীন বাংলাদেশে শেখ হাসিনা এসে ছিলেন বলেই ,‌বাংলাদেশ আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলেই, আজকে বাংলাদেশের মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, ১৮০০০ কমিউনিটি ক্লিনিক, বছর শেষে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কোমলমতি শিশুদের হাতে বছরের প্রথম দিনই নতুন বই তুলে দিয়েছেন, তাছাড়া বয়স্কদের ভাতার ব্যবস্থা, প্রতিবন্ধীদের ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রান্তিক খেটে খাওয়া মানুষের জন্য ভিজিএফ কার্ডের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করেছেন, এছাড়াও অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করতে চান শেখ হাসিনা। তারই ধারাবাহিকতায় ৮ হাজার ৭ শত ২২ কোটি টাকা ব্যয় নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাপি ৫৬০টি মডেল মসজিদ।

জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছেন বলেই, বাংলাদেশে বড় বড় মেগা প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে, বাংলাদেশ পরিচিতি পেয়েছে একটি মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে। শেখ হাসিনার‌ সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন বলেই, নিজস্ব অর্থায়নে দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপন হয়েছে, ১০ টাকা কেজিতে চাউল বিতরণ করা হচ্ছে, সমুদ্রসীমা বিজয় হয়েছে, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ হচ্ছে, রুপসা, দ্বিতীয় মেঘনা, গোমতী কাঁচপুর সেতু নির্মিত হয়েছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেস হাইওয়ে নির্মাণ হচ্ছে মেট্রোরেল প্রকল্প চলমান, রুপপুর পরমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, এশিয়ান হাইওয়ে রোড প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে, এছাড়াও সড়ক ও পরিবহন ক্ষেত্রে যুগ উপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ দারিদ্রসীমা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে, নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নতিকরণ হয়েছে, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে, দেশের মানুষের কথা বিবেচনা করে শেখ হাসিনা ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প চালু করা হয়েছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। তাছাড়া বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে, যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারের বিচার হয়েছ, বাংলাদেশকে ১০০টি অর্থনৈতিক জোন হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ আজকে অর্থনৈতিকভাবেও পাকিস্তানকে পিছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছে। পাকিস্তানের অর্থনীতিবিদরা ও পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবীরা আক্ষেপ করে বলছেন, আমাদেরকে বাংলাদেশে বানিয়ে দেন। পাকিস্তানের অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাছে হাত পাততে হবে। ভারতের অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের থেকে অনেক এগিয়ে গেছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং শেখ হাসিনার সততা, সাহসিকতা, দক্ষতা, দেশপ্রেম, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের বিশ্বের দরবারে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সততা ও সাহসিকতার কারণে আজকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃত্বের কাছে উন্নয়নের প্রতীক, উন্নয়নের রোল মডেল, গণতন্ত্রের প্রতীক, শান্তির প্রতীক, মর্যাদা ও সমৃদ্ধির প্রতীক। শেখ হাসিনার কারণে আজকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় পেয়েছে এবং মানবিক বিশ্বের প্রধান নেতা হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছেন। বিশ্ব নেতৃত্ব আজকে শেখ হাসিনার প্রশংসা করছেন। শেখ হাসিনার কারণেই বাংলাদেশের সীমান্ত চুক্তি হয়েছে, ছিটমহল চুক্তি হয়েছে, সমুদ্রে বিজয় হয়েছে।

আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণেই বাংলাদেশ বড় দশটি মেগা প্রকল্পের প্রজেক্ট গ্রহণের কারনে আগামী দিনে বাংলাদেশ অনেক উন্নত দেশকে ছাড়িয়ে যাবে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ২১০০ সালের যে ডেল্টা প্রোজেক্ট দিয়েছে এর মধ্য দিয়ে ২০৩০ সালে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ আর ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।আমরা এই কারণে মনে করি, আধুনিক বাংলাদেশে গড়ার কারিগর জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর কারনেই আজকের বাংলাদেশ, আধুনিক বাংলাদেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে বিশ্বে। যোগ করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, আর শেখ হাসিনা মানে আধুনিক বাংলাদেশ। আমরা তাই বলতে চাই, বাংলাদেশের ইতিহাসে সফলতার নাম হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা কোন ব্যক্তির নাম নয়, শেখ হাসিনা হচ্ছে আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার।

১৯৭৫ সালের ‌১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর বাংলাদেশে একমাত্র রাজনীতিবিদের‌ নাম হচ্ছে জননেত্রী শেখ হাসিনা। জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, শেখ হাসিনা ইডেন কলেজের ভিপি ছিলেন। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রী মিছিলের নেতৃত্বে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর যারাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন, তারা কেউই সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না, একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর একমাত্র শেখ হাসিনাই সফল রাজনীতিবিদ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার সততা ও সাহসিকতা দিয়ে এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বিশ্বে এক অভাবনীয় মর্যাদায়। যারা একদিন বিদ্রুপ করে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির‌ দেশ বলে আখ্যায়িত করে ছিলেন, সেই দেশের‌ রাষ্ট্রপ্রধান শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ” বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাংলাদেশ,‌ বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ।” সেই দেশের সাংবাদিক ডেবিট ফোর্স, সেই দেশের রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন ” কিভাবে দারিদ্র বিমোচন করতে হয় আমেরিকার‌ প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেনকে বাংলাদেশর‌ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। ”

বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন দেখে বিশ্ব নেতৃত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছেন, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানগন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে নিয়ে গবেষণা করছে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও শেখ হাসিনাকে বলছেন,
” বিশ্ব শান্তির দূত “। তাই আমরা মনে করি, শেখ হাসিনা হচ্ছে, বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি সফলতার নাম, আধুনিক বিশ্বে শেখ হাসিনা হচ্ছে, বাংলাদেশের নাম, শেখ হাসিনা হচ্ছে উন্নয়ন সমৃদ্ধির শান্তির প্রতীক। আমরা বলতে পারি আধুনিক বাংলাদেশ বলতেই শেখ হাসিনাকেই বোঝায়।

করোনা সংকটে জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদান প্রসঙ্গে এস এম কামাল হোসেন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের মানুষকে যেমন ভালোবাসতেন এবং বিশ্বাস করতেন, ঠিক তেমনি ভাবে বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষকে ভালবাসেন এবং বিশ্বাস করেন।

২০১৯ সালের ৮ই মার্চ বাংলাদেশ যখন প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়, ঠিক তার পরের দিন ৯ই মার্চ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহীর সভায় জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ তার সহযোগী সংগঠনের সমস্ত নেতাকর্মীদের অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দেন। তিনি দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ যেন কষ্টে না থাকে, কেউ যেন না খাবারের কষ্টে না থাকে। করোনা শুরু থেকেই বাংলাদেশের এক শ্রেণীর মানুষ অপপ্রচার করেছিলেন, বাংলাদেশে প্রায় ২০ লক্ষ লোক মারা যাবে, ১ লক্ষ মানুষ না খেয়ে মারা যাবে, কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে একটি লোকও না খেয়ে মারা যায়নি। উন্নত বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানরা করোনা মোকাবেলায় হিমশিম খেয়েছেন, সেখানে জননেত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দক্ষতা, সাহসিকতা, সততা এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে করোনার মোকাবেলা করেন। বিশ্বে যখন প্রথম করোনার টিকা আবিষ্কার হয়,ঠিক তখনই জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন সাহসিকতার জন্য উন্নত বিশ্বের টিকা গ্রহণকারী ৩৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। আমরা পেয়েছি একজন শেখ হাসিনাকে, যিনি তার সততা, দক্ষতা,সাহসিকতা এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কথা চিন্তা করে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন, আর এই জন্য বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানগণ শেখ হাসিনাকে ক্রাইসিস মোকাবেলায় শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী আখ্যা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেকোনো সংকট মোকাবেলায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী বিশ্বে।

করোনা মোকাবেলায় কমনওয়েলথের মহাসচিব পেট্রোসিয়া, স্কটল্যান্ডে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২১ উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে বিশেষ ঘোষণায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অসাধারণ নারী নেতৃত্বের গভীর অনুপ্রেরণা হিসেবে অভিহিত করেন।‌‌ কোভিড-১৯ মোকাবেলায় তার নিজ দেশে তাদের সফল নেতৃত্বের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে করোনা মোকাবেলায় বিশ্বে সফল নেতৃত্বের শ্রেষ্ঠনেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা বুলুম্বারে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে ” মরণব্যাধি করোনা নিয়ন্ত্রণে করে মানুষের জন্য সহনশীল পরিবেশ সৃষ্টিতে এবং আত্মসামাজিক উন্নতিসহ বসবাসযোগ্য উপযোগী নিরাপদ শীর্ষ ২০টি উন্নতি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।”

এস এম কামাল হোসেন
সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

নিউজটি শেয়ার করুন

এই মুহূর্তে

নৃবৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি ব্যবসায়িক পণ্য জরিপ ও বাজার যাচাই করতে খুবই যুগোপযোগী
বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২১
এখন যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সদাপ্রস্তুত : প্রধানমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২১
দীর্ঘ ২৪ বছরে পার্বত্য শান্তি চুক্তি, বাস্তবায়ন নিয়ে ক্ষোভ
বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২১
দুই সিটি করপোরেশনের ভাড়াটে চালকরা পালিয়েছেন : নগরজুড়ে বর্জ্যের স্তূপ
বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২১
সাভারে শবে বরাতের রাতে ৬ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা : ১৩ জনের ফাঁসির আদেশ
বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২১
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনীতি করছে বিএনপিঃ বাহাউদ্দিন নাছিম
বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১
উইঘুরদের নির্যাতন-পীড়নে চীনের নেতারা, ফাঁস জিনজিয়াং পেপারস
বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১
‘বিজয়ের মাসে ৫জি যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ’
বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১
বাসচাপায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বিএনপি!
বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১
যেসব খাতে পাকিস্তান-ভারতকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ
বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১
খবরের আর্কাইভ