ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন
কক্সবাজারে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, বিপাকে জেলেরা
কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১, ০৭:০৭:০৮ পিএম
  • / ৩৭ বার খবরটি পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা ও মাছের বংশবিস্তারে সাগরে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা চলছে।

একদিকে সমুদ্রে মাছ শিকার বন্ধ, অন্যদিকে করোনার জন্য কাজও নেই জেলেদের । এ কারণে জেলেদের চরম কষ্টে চলছে জীবনযাপন। সংসারের খরচ বহন, সুদের হার বৃদ্ধি ও সুদ-আসল টাকা পরিশোধ নিয়ে চিন্তিত কক্সবাজার জেলার জেলে পরিবারগুলো।

আয় রোজগারহীন দীর্ঘদিন বেকার সময় কাটানোর ফলে অনেকের ঘরে চুলায় এখন আগুন জ্বলছে না। এমন অবস্থায় কক্সবাজার জেলার বেশির ভাগ জেলে পল্লীগুলোতে হাহাকার চলছে বলে অভযোগ উঠেছে।

তবে টেকনাফ, বাহারছড়া, উখিয়া ও মহেশখালীর বেশির ভাগ জেলে নিষেধাজ্ঞা মানছে না। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে গোপনে সাগরে প্রায়ই মাছ শিকার করে আসছে বলে অভিযোগ উঠে।

জানা যায়, মৎস্য অধিদপ্তরের নিবন্ধিত প্রতি জেলেকে ৬৫ দিনের জন্য ৮৪ কেজি করে চাল দেয়া হয়। তার মধ্যে ৫০ কেজি চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের চাল দিয়ে তাদের সংসার চলে না এমনটাই জানালেন অনেক জেলে।

এছাড়া নিবন্ধিত জেলেরা চাল পায়। বাকী অনিবন্ধিত জেলেরা চাল না পেয়ে হতাশ। সহায়তা না পাওয়াদের অবস্থা আরও ভয়াবহ বলে জানান স্থানীয় জেলেরা।

এ বিষয়ে স্থানীয় রফিক মাঝি বলেন, ‘কঠোর লকডাউন ও ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষেধ থাকার কারণে বেকার জীবনযাপন এবং সংসারের খরচ ও সুদি মহলের সুদ-আসল পরিশোধের জন্য চাপের মুখে থাকলেও করার কিছু নেই। মাছ ধরা বন্ধ, সংসার চালাবো কিভাবে? সরকার যে সহায়তা দেয় তাও সামান্য।’

একই এলাকার আরেক সিরাজ বলেন, ‘২০ বছর ধরে সাগরে মাছ শিকারের পেশা। কিন্তু আজ পর্যন্ত বন্ধের সময় কোন ধরনের সরকারি সহায়তা পেলাম না। জেলে কার্ড করতে গিয়ে কার্ডও করতে পারিনি জনপ্রতিনিধিদের জন্য। প্রকৃত জেলেরা জেলে কার্ড পায় না; জেলে কার্ড পায় মেম্বার-চেয়ারম্যানদের স্বজনরা। গরিবের দুঃখ কেউ বোঝে না।’

তবে কক্সবাজার জেলা মৎস্য অধিদপ্তর কার্যালয় সুত্র জানায়, কক্সবাজারের ২০ হাজার জেলেকে সরকারি খাদ্য সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। ৬৫ দিন এই নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জেলেপ্রতি ৮৪ কেজি করে সরকারি সহায়তার চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রতি জেলেকে ৫০ কেজি চাল দেয়া হয়েছে। বাকী চালগুলো শীঘ্রই দেয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কঠোর নজরদারি রয়েছে প্রশাসনের দাবি তাঁর।

এদিকে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য সমবায় সমিতির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘হাতেগোনা কয়েকটি ট্রলার গোপনে সাগরে যাচ্ছে। বাকি জেলার প্রায় ছয় হাজারের বেশি মাছ ধরার ট্রলার উপকূলে রয়েছে।’

উল্লেখ্য, কক্সবাজারে নিবন্ধিত সাড়ে চার হাজার ট্রলার রয়েছে। এসব ট্রলারে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় লক্ষাধিক জেলে। তবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৪৮ হাজার।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই মুহূর্তে

স্বতন্ত্র কোম্পানীর ভর্তুকির জন্য চীনকে শাস্তি দিতে প্রস্তুত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
কুড়িগ্রামে কবরে ৪ মাস পরেও নারীর লাশ অক্ষত
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
৫র্ম শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা, আটক ১
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
দোহারে পরিচ্ছন্ন কর্মীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ভারতীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিবস পালিত
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
বাংলা‌দেশ-ভার‌ত সম্পর্ক র‌ক্তের বন্ধ‌নের, সহ‌যো‌গিতা আগামী‌তেও থাকবে
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
৮নং দুর্গাপুর ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হতে চান আছিফ রহমান শাহীন
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ, কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা একই সূত্রে গাঁথা
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ইভ্যালির সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী গ্রেফতার
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
খবরের আর্কাইভ