ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
খালেদার সঙ্গে হেলেনার ভাইরাল হওয়া ছবির নেপথ্যে
কলকাতা টিভি ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১, ১২:৫৮:১১ পিএম
  • / ৯৩ বার খবরটি পড়া হয়েছে

‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের পোস্টার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে আলোচনায় আসেন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হেলেনা জাহাঙ্গীর। তার এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দলের উপকমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সবশেষ অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

সম্প্রতি ফেসবুকে নেতা বানানোর ঘোষণা দিয়ে ছবি পোস্ট করেন নামসর্বস্ব এই সংগঠনের কথিত কেন্দ্রীয় সভাপতি হেলেনা জাহাঙ্গীর আর সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মনির। তাদের নাম সংবলিত পোস্টারে ছেয়ে যায় ফেসবুক। পোস্টারে সংগঠনটির জেলা, উপজেলা ও বিদেশি শাখায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।

পরে তার এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দলের উপকমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। শনিবার (২৪ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি।

ওই সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে হেলেনা জাহাঙ্গীরের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘‘ব্যবহারে বংশের পরিচয়…. আমাদের দেশের কিছু মানুষ রাজনীতি করে নিজের দেমাগ ফুটিয়ে তুলতে। নিজের দলের সাথে নিজের কমিটির মেম্বারদের সাথে নিজেরাই পেছনে লেগে থাকে। কি অসভ্যতা আল্লাহ মাফ করুন। ছিঃছিঃ কি জঘন্য মানসিকতা। আমরা এগুলো দেখে বড় হই নাই। ঘাত-প্রতিঘাত পার করে আজকের এই অবস্থান। পেছনে যারা করে তারা কখনো উঠতে পারে না। রাজনীতি করলে মনে করে সে নিজেই রাজা তার ওপরে যে কত রাজা আছে সেটাই ভুলে যায়। কিছু কথা না বলেই নয়।

সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে কি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি নেই? তাতে কি কিছু বুঝা যায়? আমারা কি অশিক্ষিত যারা এই ভুলগুলো করছি। সবাইকে জানানোর জন্যেই বলছি, আমি আমার নেতা ও নেত্রীর কথার বাইরে এক পাও আগাই না, কাজও করি না। ওনাদের পরামর্শ নিয়েই সব কাজ করি। যারা আমাকে নিয়ে লিখেছেন তারা আমাদের আওয়ামী লীগের। আমার বোধগম্য হয় না কীভাবে তারা ঘরের মানুষের ঘরের মানুষ লেগে থাকে। যাইহোক আল্লাহ হেদায়েত করুন। আবারও বলছি এর আগেও বলেছি খালেদা জিয়া ও অনান্যদের সাথে যে ছবিগুলো ভাইরাল হচ্ছে সেটা বিয়েতে এসেছিল তখন তোলা ছবি এবং এ ছবিগুলো আমি নিজেই ফেসবুকে দিয়েছিলাম। আমার কিছুই গোপনীয়তা নেই। আর আমি একজন প্রকৃত ১০০% ব্যবসায়ী ও সরকারের একজন কমার্সিয়াল ইমপোর্টেন্ট পার্সন CIP…সেখান থেকে রাজনীতিতে এসেছি।

বঙ্গবন্ধুর সৈনিক ছোটবেলা থেকেই। যারা পেছনে কথা বলে তারা আমার কাছে আসতে পারে না বলেই এভাবে লেগে থাকে। আমার চেয়ার আমাকে কেউ দেয় নাই। আমার যোগ্যতায় ও আমার কঠোর পরিশ্রমের ফসল আমার এখানে আসা। পেছনে যারা কথা বলে তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই বলেই বলে। যাদের যোগ্যতা নেই, তারাই মানুষের পেছনে লেগে থাকে, মানুষ সামাজিক জীব সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদেরকে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে যেতে হয়, একটা ছবি মানুষের রাজনৈতিক পরিচয় বহন করে না।’’

যদিও পরবর্তীতে হেলানা জাহাঙ্গীর তার ফেসবুক থেকে এই পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে হেলেনা জাহাঙ্গীরের ছড়িয়ে পড়া ছবিটি ২০১৭ সালের একটি বিয়ের রিসেপশনে তোলা। বিয়ের অনুষ্ঠানটি ছিল প্রয়াত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের একমাত্র মেয়ে আনা কাসফিয়ার, যা ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর হোটেল রেডিসনে হয়।

ছবির প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, এটি একটি অনুষ্ঠানে তোলা ছবি। তবে সেখানে হেলেনা জাহাঙ্গীর আমন্ত্রিত ছিলেন না। তার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্কও নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির সম্পাদকমণ্ডলীর এক নেতা বলেন, খালেদা জিয়া কখনও হেলানা জাহাঙ্গীরকে চিনতেন না। এখনও চিনেন না। মূলত মওদুদ আহমেদের মেয়ের বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে হেলেনা জাহাঙ্গীর আসেন। তখন আমাদের দলের ব্যবসায়ী এক নেতা তাকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ওই সময় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদও ছিলেন। এরপরই তিনি ম্যাডামের পাশে দাঁড়িয়ে ছবিটি তোলেন।

এদিকে ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও ব্যক্তিবর্গের সম্মানহানি করার অপচেষ্টার অভিযোগে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাতে র‌্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এই অভিযান চালায়। অভিযানে ১৯ বোতল বিদেশি মদ, একটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, একটি হরিণের চামড়া, দুটি মোবাইল ফোন, ১৯টি চেক বই ও বিদেশি মুদ্রা, দুটি ওয়াকিটকি সেট এবং জুয়া বা ক্যাসিনো খেলার সরঞ্জামাদি ৪৫৬টি চিপস উদ্ধার করা হয়। পরে মধ্যরাতে তার জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশনেও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই মুহূর্তে

টাঙ্গাইল দুই লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ চায়না জাল ধ্বংস
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
দৌলতখান হাসপাতালে এক্স-রে মেশিনের কার্যক্রম বন্ধ ১৩ বছর
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
সারাদেশে পণ্যবাহী পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ঘরে বসে বিএনপি কৃষক, শ্রমিকদের জন্য মায়াকান্না করে: ওবায়দুল কাদের
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
লালমনিরহাটে পুনাকের উদ্যোগে নকশিকাঁথা সেলাই প্রশিক্ষণ
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
কক্সবাজারে রেলপথ মন্ত্রী
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
নড়াইলে মাদক মামলায় এক নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
স্ত্রী হত্যার দায়ে নীলফামারীতে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
নোয়াখালীতে ইয়াবাসহ পুলিশ কনস্টেবল গ্রেফতার
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
এটিএম’র লক ভেঙ্গে ২৪ লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই, গ্রেফতার ৩
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
খবরের আর্কাইভ