ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন
বিধিনিষেধ নাকি বিড়ম্বনা?
শেখ মহিউদ্দিন মধু
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১, ০৪:২৫:২২ পিএম
  • / ২০৯ বার খবরটি পড়া হয়েছে

সারা বিশ্বকে অসহায় করে তোলা মহামারী কোভিড-১৯ তথা করোনা ভাইরাসের হানায় বিধ্বস্ত বাংলাদেশও। বছরখানেক বাদে চলতি মার্চে আবারও চোখ রাঙানী দেয় মরণঘাতী এই ভাইরাস। এরপর প্রতিদিনই গড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড।

শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য মানুষের ঘরকে ‘লকআপ’-এ পরিণত করার নাম ‘লকডাউন’। এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই সংক্রমণ কমানো সম্ভব বলে সেই পথেই হাঁটছে রাষ্ট্রগুলো। সেলক্ষ্যে গত ৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ১৮ দফা কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে হাসিনা সরকার। যদিও ঘোষিত সেই প্রজ্ঞাপনে লকডাউন শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি।

৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে শপিং মল, দোকান-পাট, হোটেল-রেস্তারাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যাতায়াতের মাধ্যমে খোলা রাখতে পারবে সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্প ও পোশাক কারখানা। আর তাতেই দেখা দেয় গোঁড়ায় গন্ডগোল। এ যেন দরজা খুলে জানালা বন্ধ করে করোনা তাড়ানোর উপায়!

প্রয়োজন কিংবা অপ্রয়োজন, সপ্তাহখানেকের এই লকডাউনে নানান অজুহাতে রাস্তায় দেখা গেছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে। ছিল না স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই। এমনকি প্রশাসনকেও দেখা যায়নি সেই বিধিনিষেধ মানানোর কড়াকড়িতে। উল্টো রাস্তার বের হওয়া মানুষের মুখে লকডাউন না মানার পক্ষে নানান যুক্তিও শোনা গেছে।

এমনকি গণপরিবহন না থাকলেও এই সংক্রমণের শঙ্কামূলক পরিস্থিতিতে বই মেলা চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলা একাডেমি। এনিয়ে সাধারণ মানুষের হাসি তামাশার খোরাক তৈরি হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পরে অবশ্য নির্দিষ্ট সময়ের দুইদিন আগেই বইমেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত আসে একাডেমি কর্তৃপক্ষ।

করোনার সংক্রমণ বাড়া কিংবা লকডাউনের মত পরিস্থিতির যে আতঙ্ক সেটা অবশ্য কমেছে নিরেট পেটের টানেই। ফলে প্রজ্ঞাপন দেয়ার পর থেকেই শপিংমল ও দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে রাজধানীসহ বেশ কয়েকটি জেলার ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের জেরে সপ্তাহখানেক লকডাউনের দুইদিনের মাথাতেই শর্ত সাপেক্ষে খুলে দেয়া হয় সব। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার কঠোর নির্দেশ থাকলেও তা মানার জো নেই ক্রেতা-বিক্রেতা কারও।

লকডাউন মোড়কে কঠোর এই বিধিনিষেধের মধ্যেই চারিদিকে সব যখন স্বাভাবিক করে দেয়া হচ্ছে, তখন গণপরিবহণ ও রাইড শেয়ারই বা কেন বন্ধ থাকবে? তাই চলমান এই লকডাউনের মধ্যেই আসে আরেক সিদ্ধান্ত! শর্ত সাপেক্ষে সিটি করপোরেশন এলাকায় সকাল-সন্ধ্যা গণপরিবহন সেবা চালু রাখার কথা জানায় সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী। এযাবৎকালে পরিবহণ খাতে শর্ত মানার তেমন কোনো দৃষ্টান্ত দেখা যায়নি। তাই স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাদাগাদি করে লোক নেয়া ও সিটির বাইরেও আন্তঃজেলা বাস চলাচল করতে দেখা গেছে।

 

ধীরে ধীরে বেড়ে যায় হট্টগোল! লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। তাই প্রশ্ন উঠেছে, আসলে কতটা বাস্তবায়নমূখী ছিল দ্বিতীয় দফার প্রথম পার্বণের কথিত এ লকডাউন?

এই প্রশ্ন-ভাবনার মধ্যেই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানালো হাসিনা সরকার। প্রথমে সরকারের সেতুমন্ত্রী বলেন, আবারও সপ্তাহখানেকের জন্য ‘সর্বাত্মক লকডাউন’র কথা ভাবা হচ্ছে। পরক্ষণেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বলা হয়, চলমান এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত। আর ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হবে তথাকথিত সেই ‘সর্বাত্মক লকডাউন’। জারি করা হয় নতুন প্রজ্ঞাপন। নতুন বিধিনিষেধের এই প্রজ্ঞাপনেও নানাবিধ ছাড় দেয়া হলো আবারো।

সরকারি, বেসরকারি অফিস এবং স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট এই সময়ে পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখা যাবে শিল্প-কারখানা। এই সময়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। এছাড়া ঔষধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনা, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার- ইত্যাদি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া যাবে।

তবে কয়েকদিন ধরেই সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছিল একটি ‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ কথা। সেখানে বলা হচ্ছিল কোন শিল্প কারখানা খোলা রাখা হবে না এবার। কিন্ত পোশাক শিল্পের মালিক সংগঠনগুলো দাবি জানিয়েছিল, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা খোলা রাখার কথা। সেই ধারাবাহিকতায় প্রজ্ঞাপনে দেখা যাচ্ছে, এবারও ছাড় দেয়া হলো শিল্প-কারখানাগুলোকে। তবে সড়ক, নৌ, রেল, অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট-সব ধরনের পরিবহন বন্ধ থাকবে। পণ্যবাহী যানবাহন ও জরুরি সেবার ক্ষেত্রে কোন বিধিনিষেধ রাখা হয়নি।

তবে নতুন এই প্রজ্ঞাপনেও লকডাউন বা সাধারণ ছুটি শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। যদিও সরকারর বিভিন্ন পর্যায় থেকে লকডাউন শব্দ ব্যবহার করে সেটা কঠোরভাবে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছিল। এর আগে গত ৫ই এপ্রিল থেকে দেশে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও তা কতটা কার্যকর হয়েছে সেটি সহজেই অনুমেয়!

যেহেতু এই প্রজ্ঞাপনেও কিছুটা ছাড় আছে তাই সবমিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, চলমান লকডাউন আর সর্বাত্মক লকডাউন’র মধ্যে পার্থক্য কী হবে?

হয়তো প্রশাসনকে কিছুটা কড়াকড়ি অবস্থানে দেখা যাবে। তাহলে দফায় দফায় সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা বা নমনীয়তা দেখানোর এই কথিত ৯ দিনের লকডাউনেরই হেতু কী? আবারও বিক্ষোভ দেখা দিলে মার্কেট-দোকানপাট খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তে যাবে সরকার? এমন ভাবনা আছে জনমনে। কেবল দূর-পাল্লার যানবাহন বন্ধ করেই কি কমানো গেছে সংক্রমণের মাত্রা? নাকি ভোগান্তিই বাড়িয়েছে সরকারের এসব সিদ্ধান্ত? যতটা না প্রজ্ঞাপন তারচেয়ে বেশি বিড়ম্বনা সাধারণ মানুষের।

 

করোনা নিয়ন্ত্রণে চলমান ও আগত সর্বাত্মক লকডাউন কতটা সফল হবে তা বলা দায়! তবে সবকিছু ছাপিয়ে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের হাহাকার, কে আছে দেখার?

লেখকঃ গণমাধ্যমকর্মী

নিউজটি শেয়ার করুন

এই মুহূর্তে

স্বতন্ত্র কোম্পানীর ভর্তুকির জন্য চীনকে শাস্তি দিতে প্রস্তুত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
কুড়িগ্রামে কবরে ৪ মাস পরেও নারীর লাশ অক্ষত
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
৫র্ম শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা, আটক ১
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
দোহারে পরিচ্ছন্ন কর্মীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ভারতীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিবস পালিত
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
বাংলা‌দেশ-ভার‌ত সম্পর্ক র‌ক্তের বন্ধ‌নের, সহ‌যো‌গিতা আগামী‌তেও থাকবে
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
৮নং দুর্গাপুর ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হতে চান আছিফ রহমান শাহীন
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ, কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা একই সূত্রে গাঁথা
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ইভ্যালির সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী গ্রেফতার
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
খবরের আর্কাইভ